তুমি সত্যিকারের রানী হও!
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
প্রিয় বোন আমার! শোন! তোমাকেই বলছি! খুব করে সেজে কোথায় যাচ্ছো আজ? ও তো তোমার পথ নয়! কার জন্য সেজেছো তুমি? কার প্রতি ভালোবাসার জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেবে তুমি আজ? তোমার এই রূপ দেখার অধিকার তো তার নেই! তুমি অমূল্য, তুমি নারী, তুমি এই পৃথিবীতে আল্লাহর এক অনন্য নিআমাত! কেনো তবে নিজের মর্যাদাকে হেয় করছো? কেন ফুলে ফুলে মধু পান করা মৌমাছির কাছে নিজেকে সঁপে দিচ্ছো? কেন মরীচিকাকে পানি ভেবে ছুটে যাচ্ছো তুমি?
এইযে যার কাছে নিজেকে সঁপে দিতে যাচ্ছো, সে তোমার কে বলতো? তোমার উপর তার কিসের অধিকার? কোন বিশ্বাস আর অধিকার বলে তোমার অমূল্য সম্পদ তাকে দিয়ে দেবে তুমি, বলো? ভাবছো এসব বলে আমি তোমাকে আনন্দ থেকে বঞ্চিত করতে চাইছি! আমি তোমার শত্রু! না, না! তোমার সর্বস্ব লুফে নিয়ে তোমাকে নিঃস্ব করে যেদিন ছুঁড়ে ফেলে যাবে সেই অমানুষটি, সেদিন আমার কথাগুলি ঠিক মনে পড়বে দেখো! পত্রিকা খুললেই তো দেখো, তথাকথিত প্রেমের নামে কত মেয়ে ইজ্জত হারাচ্ছে! অন্তরঙ্গ মূহূর্তের নানা ভিডিও আর ছবি দিয়ে কিভাবে সেই প্রেমিক প্রবরটি ব্ল্যাকমেইল করছে? এর পেছনে তোমার ভুলগুলি কতটা দায়ী একবারও কি ভেবে দেখবেনা? বোন আমার! তুমি তো সহজলভ্য পণ্য নও! তুমি যে তোমার সেই স্বামীর আমানত, যে কিনা আল্লাহর নির্ধারিত বিধানের মাধ্যমে সারাজীবনের জন্য তোমার হাতটি ধরবে, তোমার সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনার সাথী হবে! তুমিতো তথাকথিত প্রেমিকের সম্মত্তি নও!
প্রিয় বোন আমার! তুমি কি তোমাকে চেনো? তুমি সুরক্ষিত মুক্তা! তুমি সংরক্ষিত হীরা, তুমি স্নেহমাখা শীতল কোমল স্পর্শ! তাইতো তোমার মর্যাদা অনন্য! তোমাকে তাই আবৃত রাখতে হয় নিজেকে! সংরক্ষণ করতে হয় অমূল্য সতীত্বকে! তুমিই বলোনা, সুরক্ষিত রত্নকে কি কেউ প্রকাশ্যে ফেলে রাখে? ভাবছো আমি তোমার স্বাধীনতাকে খর্ব করতে চাইছি? মোটেও নয়! আমি তোমাকে নারী থেকে রানী হওয়ার কথা বলছি! তোমার কি মনে পড়ে, সেই আইয়্যামে জাহিল্যিয়াতের ঘনঘোর আঁধারে যখন তোমায় জীবন্ত পুঁতে ফেলা হত, স্বামীর মৃত্যুর পরে ওয়ারিশদের মধ্যে তোমাকেও বন্টন করে দেয়া হত, উটের পিছনে বেঁধে ছেঁচড়ে ছেঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হত বহুদূর, তুমি চিত্কার করে কাঁদতে, আর তখন নারীকে দু’পেয়ে প্রাণী মনে করা অমানুষেরা তখন অট্টহাসি হাসতো!
তখন কোথায় ছিল স্বাধীনতা, বলো? মহামহিম রব তখন তাঁর বার্তাবাহককে পাঠালেন তোমায় মুক্তি দিতে। আর সেই মহামানব প্রিয় নবী সাঃ নারীকে কবরের প্রান্ত থেকে তুলে এনে আসীন করলেন অনন্য মর্যাদায়! তোমার নায্য অধিকার নিশ্চিত করলেন! নিজ স্ত্রীকে, কন্যাকে ভালোবেসে দেখালেন, নারী কত দামী! ভোগ্যপণ্যে পরিণত হওয়া নারীকে তিনি উদ্ধার করে আসীন করলেন রানীর মর্যাদায়! নারী হয়ে গেল রানী!
আগে যে নারী ছিল সহজলভ্য ভোগ্যপন্য, সেই নারী হয়ে গেল ঝিনুকের মাঝে সুরক্ষিত মুক্তাসদৃশ! ইসলামের ইতিহাস খুলে দেখো, নারীরা নিজেদের সতীত্বের প্রতি কত যত্নবান ছিলেন! শুধু নারীর ইজ্জত রক্ষার্থে কত যুদ্ধ হয়েছিলো, কত মুসলিম পুরুষ জীবন বিলিয়ে দিয়েছিলেন! কিন্তু তোমার দুশমনেরা এ সম্মান সইবে কেন? তোমাকে যে তারা সহজলভ্যে পরিণত করতে চায় আবারো! তারা যে তোমার রূপ দেখে নিজেদের অবৈধ বাসনার তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে চায়! তাইতো তারা তোমাকে চমক দেখালো! তোমাকে বুঝালো দেহের প্রদর্শন করলেই খ্যাতি! বিবাহ বহির্ভূত প্রেমেই সুখ! লিভ টুগেদার মানে স্মার্টনেস! পর্দা মানে তোমার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ! তাই তারা কৌশলে প্রবর্তন ঘটালো নানা দিবসের, নানা প্রতিযোগিতার! সবকিছুই শুধু তোমাকে সহজলভ্য করে তোলার অভিপ্রায়ে!
আর তুমি বুঝলেনা! তুমি বুঝলেনা কি ভয়াবহভাবে তাদের ধোকায় পড়ে গেলে! তুমি নিজেকে উন্মুক্ত করে দিলে! নিজেই নিজেকে পণ্যে পরিণত করলে! নিজের সতীত্বকে নিজেই সহজলভ্য করে দিলে! সুন্দরী প্রতিযোগিতা, বিভিন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপন, ফ্যাশন আর ভালোবাসার নানা দিবসের নামে, নানা ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দিয়ে দিলে তুমি! প্রিয় বোন আমার! জানো, তোমার ভাবনায় কাল সারারাত ঘুমাইনি আমি! আমি তোমাকে চিনিনা, জানিনা! কিন্তু তুমি যে আমারই এক মুসলিম বোন! এক কালেমা পড়েই এই বন্ধনে আবদ্ধ আমরা! তোমার এই অধঃপতন, এই ক্ষতি, আমি কি করে সইতে পারি বলো? তাইতো তোমার তরে আমার এই অশ্রুঝরা কথামালা! তোমার প্রতি আমার উদাত্ত আহব্বান, তুমি ফিরে এসো তোমার রবের নির্দেশিত পথে! তোমার সতীত্বের হেফাজাতকারী হও! তুমি ঝিনুকের মাঝে সুরক্ষিত মুক্তা হও! তুমি নারীর মত নারী হও! সত্যিকারের রানী হও
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন